ফরিদপুর প্রতিনিধি-
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় নবম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে ধর্ষণের চিত্র মোবাইল ফোনে ভিডিও করার অপরাধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনাটি উপজেলার শেখর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে ঘটে। বুধবার ছাত্রীর মা ওমর ফারুক সোহান (২২) নামে একজনকে আসামি করে বোয়ালমারী থানায় মামলা দায়ের করে। ওমর ফারুক উপজেলার শেখর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের বাসিন্দা ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার একটি কলেজের ছাত্র।
থানা সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের মো. ওহিদুজ্জামান নবাবের ছেলে মো. ওমর ফারুক সোহান ওই ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রেমের সম্পর্কে বিষয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি রাতে নিজ বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং মোবাইল ফোনে ধর্ষণের দৃশ্য ধারন করে রাখে। পরে ধারনকৃত ছবি দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে আরো কয়েকবার তারা শারীরিক মেলামেশা করে। এ ঘটনা এলাকায় জানাজনি হলে মেয়েটি তার মাকে সব বিষয়ে খুলে বলে।
এরপরই বুধবার রাতে ওই কিশোরীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা নথিভুক্ত হয়। তবে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি এবং থানায় মামলা হওয়ায় আসামি গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বোয়ালমারী থানার ওসি মোহাম্মদ নূরুল আলম বলেন, এ ব্যাপারে থানায় ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু, শ্যামনগরে
সংবাদদাতা: ইয়াছিন মোড়ল
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে সোহানা পারভীন (১৭) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জয়নগর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহানা পারভীন জয়নগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা যায়, রাতে ভুলক্রমে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সোহানাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

গাইবান্ধায় বাসদ (মার্কসবাদী)’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত
শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি
জ্বালানি তেল আমদানি, বিদ্যুৎ বিতরণ, রেল, পর্যটন মোটেলসহ ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে তুলে দেওয়া এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্যতালিকা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাসদ (মার্কসবাদী)।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বেলা ১২টায় পার্টি গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা শহরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তী সমাবেশে জেলা আহ্বায়ক কমরেড আহসানুল হাবিব সাঈদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সদস্য কমরেড গোলাম ছাদেক লেবু, কাজী আবু রাহেন শফিউল্লাহ খোকন ও নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেল আমদানি ও বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে পুরো দেশ ও জনগণ বহুজাতিক বা বেসরকারি কোম্পানির কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ; তা কোনো ব্যক্তির মুনাফার জন্য ছেড়ে দেওয়া অন্যায়।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার পাঁয়তারা এবং জনস্বার্থবিরোধী ওষুধের মূল্যতালিকা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
পাশাপাশি ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বাতিল করে এনটিআরসিএ (NTRCA)-এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল রাখার আহ্বান জানান।

বোমারু মামুনকে ধরতে সাভারে ভবন ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, গ্রেপ্তার আরিফ
রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ও সাভারের আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তাদের একজন মোহাম্মদ আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরজন নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’কে গ্রেপ্তারে সাভারে অভিযান চলছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি তিনতলা ভবন ঘিরে অভিযান শুরু করে সিটিটিসি। রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চলছিল। ভবনটির ভেতর বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত করে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একজন আরিফ। অপরজন মূলহোতা বোমারু মামুন।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় আব্দুল জলিলের বাড়িটি ঘিরে অভিযান শুরু হয়। এ সময় মোহাম্মদ আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল ও বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও ভবনটির কাছাকাছি যেতে দেওয়া হয়নি। আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সাভার মডেল থানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় পুলিশকে অভিযানের কারণ আগে থেকে জানানো হয়নি। পরে অভিযানে সহায়তা করতে তাদের সেখানে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে সিটিটিসি বিস্তারিত জানাবে।
সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানান, ভবনটির ভেতরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বাড়িটিতে তালা দেওয়া ছিল। সিটিটিসি সদস্যরা ভেতরে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অভিযানে সিটিটিসি ও স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একজনকে পাঁচটি ককটেল ও বিস্ফোরকসহ আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
ওসি বলেন, বাড়িটি চলতি মাসের ১ তারিখে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিস্ফোরক রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযানে বাড়ি থেকে জেএমবির কিছু লিফলেট, কয়েকটি ককটেলসদৃশ বস্তু এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বোমা তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
পরে রাত ১২টার দিকে ওসি জানান, আটক ব্যক্তির ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি পাঁচটি শক্তিশালী পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে একই ধরনের আরও নয়টি বোমা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামও পাওয়া গেছে।
রাত ১২টার দিকে একটি পাইপ বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়। অভিযানে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভবন থেকে উদ্ধার করা পাইপ বোমার মূল উপাদান হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড।
এসব ঘটনায় বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক।

নীলফামারী বড় মাঠে অবৈধ দোকান উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান
স্টাফ রিপোর্টার
মাইদুল ইসলাম
নীলফামারী বড় মাঠ দখল করে নির্মাণ করা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার
(১৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মোঃ তানজীর ইসলাম এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বড় মাঠের অবৈধ দোকানদারদের দোকান সরিয়ে নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন তিনি। নির্দেশের পর কিছু দোকানদার দোকান সরিয়ে চলে যান। অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম শাহ্ আরেফিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবু মোহাম্মদ সোয়েমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, নীলফামারী বড় মাঠের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে দখল করে অবৈধভাবে দোকান স্থাপন করা হয়েছে। এতে খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য মাঠের পরিসর কমে গেছে। খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ সুবিধা বাড়াতেই এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তানজীর ইসলাম বলেন, ‘আজকে আমরা প্রাথমিকভাবে এসে তাদের দোকান সরিয়ে নিতে বলছি। কিছু দোকান তাৎক্ষণিকভাবে উঠেও গেছে। কিছু স্থায়ী দোকান ছিল, সেগুলো নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা স্বেচ্ছায় উঠে না গেলে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী এগুলো উচ্ছেদ করবো।’

আওয়ামী লীগের প্রশ্নে যে বা যারা নিরব ভূমিকা পালন করবে হোক সরকারি দল বা বিরোধী দল পরিনীতি কিন্তু লীগের মত ই হবে। শ্রী অর্ণব কুমার হিরা
রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:
আওয়ামী লীগের প্রশ্নে যে বা যারা নিরব ভূমিকা পালন করবে হোক সরকারি দল বা বিরোধী দল পরিনীতি কিন্তু লীগের মত ই হবে বলে মন্তব্য করেছেন, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি শ্রী অর্ণব কুমার হিরা, তিনি আরো বলেন,
বিএনপি বরাবরই উদারতার উদাহরণ দেখাতে গিয়ে খাল কেটে কুমির এনেছে ১৯৭৯ জামায়াতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর মধ্যে দিয়ে এদেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয় জিয়াউর রহমান এবং ১৯৮৫ সালের ১৭ এপ্রিল শেখের বেটি হাসিনা কে এনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রত্যাবর্তন ঘটায় জিয়ার রহমান তার ফল ঠিক ১৭ দিন পর পান বিএনপি ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান এর হত্যার মধ্য দিয়ে,
,কাজেই বিএনপি কে বলছি এতো উদার হবেন না খাল কেটে কুমির আনবেন না দ্বিতীয় বার,

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি
‘১২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন সম্ভব নয়’
রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে অবিলম্বে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স (AFWA) বাংলাদেশ কমিটি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি দিয়ে একজন পোশাক শ্রমিকের নিজের ও পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোও কঠিন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য দ্রুত নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন AFWA বাংলাদেশ কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমীন। সমাবেশ পরিচালনা করেন AFWA বাংলাদেশ কমিটির সদস্য ও সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়ন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন AFWA বাংলাদেশ কমিটির সদস্য সচিব ও গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস লেবার কংগ্রেসের সভাপতি শামিমা আক্তার, বাংলাদেশী গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ইয়াহিয়া খান, AFWA বাংলাদেশ নারী কমিটির আহ্বায়ক রাসিদা আক্তার ও সদস্য জাহানারা বেগম, আলোকিত গার্মেন্টস গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা কমিটির সভাপতি বিল্লাল হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান এবং বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে এই শিল্পের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই শিল্পের সাফল্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি লাখ লাখ শ্রমিকের সস্তা শ্রম।
তাঁরা বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে তৈরি পোশাকশিল্পে বিপুল সম্পদ সৃষ্টি হলেও সেই সম্পদের ন্যায্য অংশ শ্রমিকদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। মালিকদের একটি অংশ শিল্পের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হলেও শ্রমিকদের জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি।
বক্তারা বলেন, “মজুরি বৃদ্ধি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়। শ্রমিক যে সম্পদ উৎপাদন করেন, তার ন্যায্য অংশ পাওয়াই মজুরি বৃদ্ধির মূল প্রশ্ন।”
তাদের মতে, একজন শ্রমিকের মজুরি এমন পর্যায়ে থাকতে হবে, যাতে তিনি খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, করা শিক্ষা, পোশাক ও যাতায়াতের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পরিবার নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খাদ্য, বাসাভাড়া, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ওষুধসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আয় বাড়েনি।
ফলে একজন শ্রমিকের মাসিক আয়ের বড় অংশই বাসাভাড়া ও খাদ্য ব্যয়ে চলে যাচ্ছে। সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, পোশাক, যাতায়াত এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেন শ্রমিক নেতারা।
বক্তারা বলেন, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সংঘাত ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি, পরিবহন ও বিভিন্ন পণ্যের বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের ওপরও পড়েছে। ফলে বিদ্যমান মজুরি কাঠামো এখন আর শ্রমিকদের জীবনযাত্রার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সমাবেশে সরকারি কর্মচারীদের প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের মজুরির তুলনাও তুলে ধরেন বক্তারা।
তারা বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
শ্রমিক নেতারা প্রশ্ন তোলেন, একই দেশে বসবাসকারী একজন মানুষের খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় যদি বিবেচনা করে সরকারি কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান কারিগর পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সেই একই বাস্তবতা কেন বিবেচনায় নেওয়া হবে না?
তাদের দাবি, সরকারি-বেসরকারি সব খাতের শ্রমজীবী মানুষের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয় নিশ্চিত করার নীতি গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান মজুরি দিয়ে সংসারের ব্যয় মেটাতে না পেরে অনেক শ্রমিককে নিয়মিত অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার বাইরে দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। একই সঙ্গে পরিবারকে সময় দিতে না পারায় পারিবারিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, একজন শ্রমিকের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার মজুরি দিয়েই যদি পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানো না যায়, তাহলে অতিরিক্ত ওভারটাইমের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তাদের মতে, শ্রমিকের জীবনমান উন্নত করতে হলে এমন মজুরি কাঠামো প্রয়োজন, যাতে শ্রমিক অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য না হয়ে স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার আয় দিয়েই জীবনধারণ করতে পারেন।
সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩৯(৬)-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্ধারিত সময় পরপর নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনে কোনো অযৌক্তিক বিলম্বের কারণ নেই।
তারা বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, শিল্পের উৎপাদনশীলতা, মালিকদের সক্ষমতা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে পোশাক শ্রমিকদের অবদান বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত মজুরি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করলে শিল্প ধ্বংস হবে—এ ধরনের প্রচারণা বাস্তবসম্মত নয়। বরং ন্যায্য মজুরি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা, কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা এবং শ্রমিক ধরে রাখার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।
তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে শুধু কম মজুরির ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শ্রমিকের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে একটি টেকসই ও মানবিক পোশাকশিল্প গড়ে তুলতে হবে।
সমাবেশ থেকে AFWA বাংলাদেশ কমিটির পক্ষে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
• গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমান নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য অবিলম্বে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন;
• জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি নির্ধারণ;
• মজুরি বোর্ডে প্রকৃত ও স্বাধীন শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা;
• মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনা;
• শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা;
• শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার কার্যকর করা;
• আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের সরবরাহ শৃঙ্খলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ করা।
সভাপতির বক্তব্যে জোটের আহবায়ক প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা কাজী রুহুল আমিন চলতি আগষ্ট মাসের মধ্যে “গার্মেন্ট শিল্প সেক্টর”-এ মজুরি বোর্ড গঠন করার আহবান জানান। অন্যথায় শ্রমিকদের সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন করতে বাধ্য হবে। সেকারণে শিল্প, উৎপাদন বা অর্থনীতির যদি কোন প্রকার ক্ষতি হয় তার দায় শ্রমিকরা নেবে না, সরকার ও মালিকদের নিতে হবে। বিকেএমইএ এর সভাপতি কতৃক ৫ বছরের আগে মজুরি বাড়াবে না মর্মে ঘোষণার কঠোর সমালোচনা করে কাজী রুহুল আমিন বলেন, আপনারা মালিকরা শোষণ করেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না, নিন্দনীয় এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন যার পরিনতি ভাল হবে না। সরকার ও মালিকদের দায়িত্বশীল আচরন করার আহবান জানিয়ে বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতির বিষয়টি বিবেচনা করুন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সাফল্যের মূল কারিগর শ্রমিকরা। অথচ সেই শ্রমিকরাই যদি বর্তমান মজুরিতে পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করতে না পারেন, তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে টেকসই ও মানবিক উন্নয়ন বলা যায় না।
তিনি বলেন, “শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি কোনো অনুদান নয়। এটি শ্রমিকের উৎপাদিত সম্পদের ন্যায্য অংশ পাওয়ার অধিকার। জীবনযাত্রার ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে।”
AFWA বাংলাদেশ কমিটির সদস্য সচিব সুলতানা বেগম বলেন, পোশাক শ্রমিকদের মজুরি সংকট দীর্ঘদিনের। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না করে শুধু উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিলে শিল্পের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে না।
তিনি বলেন, “শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করেই পোশাকশিল্পকে টেকসই করতে হবে। মজুরি বোর্ড গঠনে আর কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা গ্রহণযোগ্য নয়।”
সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে উপেক্ষা করলে শিল্পে অসন্তোষ বাড়তে পারে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা শুধু শ্রমিকের স্বার্থ নয়; এটি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা, উৎপাদনশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা রক্ষারও অন্যতম পূর্বশর্ত।
AFWA বাংলাদেশ কমিটি তাই অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নতুন, ন্যায়সংগত ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি কাঠামো নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।
কর্মসূচি শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও মাননীয় মন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বরাবর গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবির আবেদন পত্র জমা দেওয়া হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তেজগাঁও, ঢাকা, বরাবর AFWA বাংলাদেশ কমিটির সদস্য সচিব সুলতানা বেগম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস লেবার কংগ্রেসের সভাপতি শামিমা আক্তার, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আঁখি এবং মাননীয় মন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বরাবর সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়ন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা দীপক শীল AFWA বাংলাদেশ কমিটির পক্ষ থেকে আবেদন পত্র জমাদেন।


Leave a Reply